
সুমন খান:
ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুলতানুল আউলিয়া হযরত বাগদাদী (রহ.) মিরপুর মাজার শরীফ ওয়াকফ এস্টেটের অতি মূল্যবান জমি দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও তাদের সহযোগীরা মাজারের জমি অবৈধভাবে দখল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিলেও মাজারকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দখলদারি তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদে মাজার এস্টেটের জহুরাবাদ মৌজার মহানগর দাগ নং-৮৫০৫ (১.২৮ একর) ভূমি সাইফুল ইসলাম গং-এর নামে এবং মহানগর দাগ নং-১০০২ ও ১০০৩ দাগের জমি আব্দুল করিম গং-এর নামে “মাটি ভাড়া”র নামে অবৈধভাবে প্রদান করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তে কোনো বিজ্ঞপ্তি, দরপত্র আহ্বান কিংবা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
পরবর্তীতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাইফুল ইসলাম গং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমি দখল করে নেয় এবং দুই বছরেও কোনো ভাড়া প্রদান করেনি। অপরদিকে আকবর গং তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাকি জমিও দখলে নেয়। আব্দুল করিম গং (বর্তমানে পলাতক) ২০২৩ সাল থেকে দখল করে অবৈধভাবে দোকান ও আড়ৎ বসিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।অব্যবস্থাপনা ও যানজট:
এভাবে মাজারের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ কাঁচাবাজারে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা, যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ পাশের বিশিল ও ছোট দিয়াবাড়ী মৌজার প্রায় ৮.৯৬ একর জমিতে ৫১টি শেড ও ৫১৮টি দোকান নিয়ে পরিকল্পিত কাঁচাবাজার কমপ্লেক্স খালি পড়ে আছে। সেখানে তিন কোটিরও বেশি টাকার বকেয়া ভাড়া আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না কেবল অবৈধ দখলদারদের কারণে।
আদালতের আদেশ উপেক্ষা:
এ বিষয়ে একাধিকবার নোটিশ, বিজ্ঞপ্তি ও মাইকিং করা হলেও দখলদাররা ভুয়া নাম-স্বাক্ষর ব্যবহার, অসত্য তথ্য ছড়ানোসহ নানা অপকৌশলে দখল বজায় রেখেছে। এমনকি রিট মামলা (১০৩১০/২০২৫ ও ১৪৮২৭/২০২৪) দায়ের করে আদালতের আদেশকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট নির্দেশনা দেন যে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যতীত কোনো লিজ প্রদান করা যাবে না।
এরই মধ্যে পার্কিংয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে এক কোটি আশি লক্ষ টাকার সর্বোচ্চ ইজারা পাওয়া গেলেও অবৈধ দখলের কারণে সেটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাজার প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
কঠোর পদক্ষেপে নেমেছে মাজার কর্তৃপক্ষ,
বর্তমান মাজার কর্তৃপক্ষ সকল ‘মাটি ভাড়া’ নামীয় অবৈধ আদেশ বাতিল করেছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং পরিকল্পিত কাঁচাবাজার কমপ্লেক্স সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি মাজারের জমিতে বহুতল কমপ্লেক্স নির্মাণ, পার্কিং সুবিধা চালু করা এবং ইসলাম ও মুসলমানের কল্যাণে ওয়াকফ কার্যক্রম প্রসারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান
মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—
অবৈধ ও বাতিল ঘোষিত দখলদারদের কাছে ভাড়া বা সেলামির নামে কোনো অর্থ প্রদান করা যাবে না।
তাদের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
মাজারের জমি রক্ষা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ এখন সময়ের দাবি। জনগণ ও প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়।
Leave a Reply